Wednesday, 8 July 2015

পাথরের কান্না

পাথরের কান্না

আব্দুল মান্নান মল্লিক

বহির্গমন হইয়া অনড়, পদ রাখ লোনাজলে,
সর্বোচ্চে উঁচিয়ে শীর্ষ, রয়েছ আকাশতলে।
ভূগর্ভের দেওয়াল ভেঙে, উদিত ভূমি পরে,
কান্নার ধ্বনি শুনি, আজও তোমার অন্তরে।
চাপা পড়া অজস্র প্রাণ, হাজারে হাজারে,
চিৎকারের আওয়াজ সেথায়, যুগযুগান্তরে।
কান্নার চোখের জল, গড়িয়ে পড়ে ঝরনা,
সর্বাঙ্গ ভিজিয়া মিশে, লোনাজলে অধুনা।
সারা জগৎ ভেবেছিল, তোমার আগমনে,
পণ্ডিতেরা পাইনি খুজে, প্রাচীন বিবরণে।
নড়েচড়ে বসেছ এবার, সেদিনের সাড়ায়,
ভেঙে পড়বে শীর্ষ তোমার, হইবে অসহায়।
বার্তাবাহী অম্বুদ তখন, পাইবেনা অবকাশ,
বিমুখ হইবে চাইবেনা ফিরে, যখন সর্বনাশ।
তোমা হতে বড় কেহ, আসিবারে হেথায়,
সাজতে করেছে শুরু, কালের অপেক্ষায়।
আতঙ্কিত তুমিও সেদিন, কম্পনের ফলে,
ফিরিবারে উদ্যোগ পুনর, যাইতে ভূতলে।
দিয়ে যেতে হবে আজ, তোমারে জবাব,
নিরবে দেখাও কেন? ক্ষমতার অনু-ভাব?

Tuesday, 7 July 2015

চুপিচুপি


স্বরচিত কবিতা

চুপিচুপি

নুয়ে পড়া আমগাছ বাড়ির পিছনে,
অপেক্ষায় বসে আছি গোধূলি লগনে।
বলেছিলে কথা তুমি আসিতে যেথায়,
অপূর্ণ হয় ভালবাসা, আসিয়া হেথায়।
হয়তো আসিবে তুমি ঘরের বাতায়নে,
ধরে গরাদ ইশারাতে, বলিবে নয়নে।
হইতো বা বলবে তুমি, পাগলামি ছেলে,
অপেক্ষায় বসে তাই আমগাছের তলে।
বাতায়নের শিক ধরে, দেখিবে যখন,
আঁখিদ্বয়ের আলিঙ্গনে, স্বার্থক জীবন।
বারেক পড়ে কিঞ্চিত, আঁখিতে আঁখি,
বলতাম ইশারায় কথা, হবনা মুখোমুখি।
বাড়ির পিছনে লুকায় বসে নিরবধি,
পাছেতে আশঙ্কা করি, কেউ দেখে যদি।
একাকী ভাবি বসে সবার অবিজ্ঞাতে,
চাহিয়া থাকি কখনো দুইতলার ছাদে।
আমি লুকায় গাছতলে, মেঘাচ্ছন্নে রবি,
নিরাশে ফিরে আসি আঁধারে চুপিচুপি।

Saturday, 4 July 2015

পারিনি বুঝিতে

পারিনি বুঝিতে

আব্দুল মান্নান মল্লিক

তুমি হঠাৎ ঘুম ভাঙাবে
আমি জানতামনা
ওহে! হস্ত পুত্তলি পেয়েছ কি মোরে?
ইচ্ছাতে গড়িয়া ভেঙেছ কতবারে।
হয়ে মমতাহীনা,
আমি জানতামনা।
পড়ে রবে একা! যদিও তুমি মহান,
ভেবেছ কখনো? নিষ্ঠুরতার বিধান!
তবুও বিড়ম্বনা?
আমি জানতামনা।
দিলে ঘুম যদি, ভেঙে দাও অচিরে,
ব্যাকুলতার হৃদয়ে স্বপ্নের আসর ঘিরে।
তবে বসতামনা!
আমি জানতামনা!
নিষ্ঠুর হে তুমি! করিনি দ্বিধা কোনো কাজে,
ছিলাম তো আরও ভাল, চৈতন্যের মাঝে
খেলাতে উন্মাদনা,
আমি জানতামনা!
অকারণে করিলে কেন ছিন্ন মায়ার বন্ধন?
উত্তর দাও আজ, এতসব কিসের কারণ?
কিছু বুঝতামনা,
আমি জানতামনা!
বুলিয়ে মাথায় হাত ঘুমপাড়ানি গানে,
দিয়ে ফুঁক চোখের পাতায় মায়ার টানে!
বুঝলে ঘুমাতামনা।
আমি জানতামনা!
চোখে দিয়ে ঘুম, করেছিলে অবসান চৈতন্য,
হয়েছ তুমি নিষ্ঠুর সেদিন, করেছি সেদিনও
তোমার সাধনা,
আমি জানতামনা।
ছেড়ে দাও তবে চাহিনা ফিরিতে তম কাছে,
মায়াহীনে কেমনে ছিলে, ছিলাম অগ্নিমাঝে!
করেছ বাহানা?
আমি জানতামনা!
কথা দাও! করিবেনা আর পরিক্ষা মোরে!
নিবেকি এবে আঁচলে ভরে, দিওনা ঘুমঘরে
না আর! অবমাননা,
আমি জানতামনা!
বুঝিতে পারিনি আজও তম এই খেলা,
বরফ কখনো তাপে আগুন হয় শীতলা।
তোমার ধারণা!
আমি জানতামনা!

Friday, 3 July 2015

স্বপ্ন সিদ্ধ

স্বপ্ন সিদ্ধ

আব্দুল মান্নান মল্লিক

অশ্বত্থ গাছের মাথার উপর,
ঐ যে সোনার রবি।
আজকে বুঝি স্বপ্নে হারা,
ফিরে পাওয়া ছবি।।
দিঘীর ধারে ভিজা মাটি,
বসতে ভিজে বসন।
পদ্মা পাতায় তৈরী করি,
বসার মতো আসন।।
দিঘীর জলে জলতরঙ্গে,
দোলন খেলে রবি।
ভাঙে আবার গড়ে কখন,
স্বপ্নের অনু-ভাবী।।
মাধবী বনে দিঘীর পাড়ে,
রং-বেরঙের পাখি।
অতি মনোহর প্রথম দিনের,
প্রাতকালের বৈশাখী।।
চিৎকার আর চেঁচামেচি,
পাখিদের কল্লোলে।
পাখিরা সব চান করে যায়,
পদ্মপাতার জলে।।
বক উড়ে যায় গগন পারে,
রবিকর তার গায়ে।
মন উদাসী তাকিয়ে থাকি,
আকাশ পানে চেয়ে।।
হারানো সেই স্বপ্ন আবার,
দেখছি নতুন ফিরে।
বাস্তব রূপে সপ্নের দেশটি,
সাজলো কেমন করে?

Thursday, 2 July 2015

সুখ সন্ধানী

সুখ সন্ধানী 

আব্দুল মান্নান মল্লিক 


গোটা দেশটা ঘুরছ কেন সুখের সন্ধানে, 

সুখ মিলবে আপন ঘরে ভাব যদি মনে। 

পান্তা ভাতের সাথে যদি লঙ্কা থাকে ঘরে, 

সুখী থাকতে দ্বিধা কেন সময় সীমা ধরে? 

দেখছ যারে সুখী ভাব সে-তো সুখী নয়, 

অচৈতন্যে রয়ে যেজন সেইতো সুখী হয়। 

যুগে যুগে মহামানব এসেছিলেন যারা, 

বিশ্বটারে সুখী করতে হেরে গেছেন তারা। 

ঢের সুখে আছ তবু কিসের এত আশ? 

বন্ধ ঘর পড়ে রবে আঙিনায় হবে বাস। 

হরেক রকম মানুষ আছে হরেক মতবাদী, 

তবেই ওঠে ভূবন গড়ে সাথে অন্তর্ভেদী। 

পেয়েছ কি বিশ্বজুড়ে সুখী মানুষ খুজে?

সকলেরই অন্তর জ্বলে বাইরে কজন বুঝে। 

সূর্য ওঠে দিনের বেলা রাতের বেলা চাঁদ, 

ধৈর্য বিনা পেয়েছে এরা সুখের আস্বাদ? 

অনুভূতিই সহানুভূতি তবেই গড়া জীবন, 

দুখ বিনা নাই অনুভূতি সুখের দপ্তর মরণ।

Wednesday, 1 July 2015

মস্ত পালোয়ান

মস্ত পালোয়ান

আব্দুল মান্নান মল্লিক

আমি এক মস্ত পালোয়ান,
এক নামেতে চেনা।
বলের কোনো নাই অনুমান,
শুনিনা কারও মানা।।
গাঁয়ের লোকে ডাকে মোরে,
পালোয়ান নাম ধরে।
কাছে আসতে ভয়ে মরে,
দাঁড়িয়ে থাকে দূরে।।
আরসোলাটি খুন করেছি,
যেদিন মাঝ পথে।
আসেনা কেউ কাছাকাছি,
দেখছে আড়ে ওতে।।
ছারপোকাটি ছুটে পালায়,
প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে।
আমায় দেখে রাস্তা হারায়,
হোঁচট খেয়ে পড়ে।।
পাঁচ লাঠিতে মাছি মারি,
সাত ঘুষিতে মশা।
একশ ওজনের তরবারি,
পিঁপড়া কাটা নেশা।।
বিড়াল তাড়াই দিনের বেলা,
নেঙটি ইঁদুর রাতে।
সাত চড়েতে ফড়িং কেল্লা,
জোনাকি মারি হাতে।।
বারো মাছি আঠারো মশা,
শত লোকের মাঝে।
কিল ঘুষিতে ঘায়েল দশা,
ভিড়েনা কেউ কাছে।।
থানার পুলিশ খুজে বেড়াই,
লুকায় ঘরের কোণে।
কি করিব কোথায় পালাই,
ভাবছি প্রতি-ক্ষণে।।
খুন খারাপির আসামি হয়,
ঘুম আসেনা রাতে।
দিনে রাতে পুলিশের ভয়,
ধরবে আচম্বিতে।।


বিভেদ মোচন

বিভেদ মোচন

আব্দুল মান্নান মল্লিক

মুছে দাও পূর্বধারণা,
গড়ে তোলো নতুন সমাজ।
একমত মোরা অধুনা,
এক শৃঙ্খলে বাঁধিবো আজ।।
ভুলে যাও ভেদাভেদ,
অধুনা আমরা সম সকলেই।
হবে জীবন অনির্বেদ,
পরিচয়ের সক্ষম মানুষ সেই।।
নামিয়ে দাও মাথা হতে,
ছিলো যত কুসংস্কার বোঝা।
মিল কর সয়ং মতামতে,
দুর্গম পথ হবে আরও সোজা।।
পায়ের ছাপ পথের পরে,
করিনা তবুও হাঁটিতে দ্বিধায়।
পদমিলন ভাবিও অন্তরে,
দুর্গমের পথ হবে সুগম সদাই।।
জাতি পাঁতি যাওগো ভুলে,
চলতে হবে আজ সবাই সমান।
হৃদয় দ্বার দাওগো খুলে,
বিগত গ্লানির করিতে অবসান।।
নীতিবাক্য সকলি সমান,
যত আছে বেদ কোরান পুরাণ।
তবু কেন ছিলাম অজ্ঞান,
কর তবে শীঘ্র পাপের সমাধান।।