Wednesday, 7 February 2018

শ্যামা ফিঙের পরচর্চা

শ্যামা ফিঙের পরচর্চা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

ডালে বসে ফিসফিস করে শ্যামা ফিঙে।
ফিঙে বলে ব্যাপারটা কি বলতো ভেঙে।
শ্যামা বলে চুপিচুপি ফিঙের কানে,
কেউ জানেনা তুই আর আমি সংগোপনে।
শুনবে নাকি নতুন খবর আরও কিছু?
কাকের বাসায় কোকিল ছানা এতকিছু।
ভালোবাসায় বড় করে বোকা কাক,
কোকিল ছাড়া শুনবে কে তার মা ডাক?
ফিঙে বলে বলবো নাকি আসল ঘটনা,
কাকের কানে বলবো সব তুই জানিস না।
তোর বাসাতে কোকিল ছানা মেলবে ডানা,
উড়বে যেদিন কেঁদেকেটে কুল পাবিনা।
চুপ-চুপ-চুপ চু---প! শ্যামা বলে বলতে মানা।
কি করতে কি যে হবে কিছুই জানিস না।
ওই যে কুহু ডাকছে কোকিল পাহারাদারি,
কাকের পিছে টিটকারি আর খবরদারি।
ফিঙে বলে থকব না চুপ করব ঘোষণা,
সব পাখিদের ডেকে বলব আসল ঘটনা।
ডাকবে কি আর মা-মা বলে কা-কা রবে,
কুহু-কুহু গান গেয়ে সে কোকিল হবে।
চুপ করিয়ে শ্যামা বলে কিছুই বুঝিস না,
আসল কথা বলব যদি ঘরে দিবে হানা।

Sunday, 31 December 2017

এই বছর সেই বছর

এই বছর সেই বছর

আব্দুল মান্নান মল্লিক

এইতো সাথী বেশ করেছ এসেই গেছ।
নতুন সাজে আজকে তুমি কেমন আছ?
রাত জাগরণ বসে সারাক্ষণ তোমার অপেক্ষায়,
রাত বারোটা কখন হবে চেয়ে ঘড়ির কাঁটায়।
চেনা মুখ তবুও তুমি অচেনা পরিচয়ে,
পিছন চেয়ে আসছ ফিরে ঠিক সেই সময়ে।
পুরানো দিনের গ্লানি যত শিশিরে ধুয়ে নিয়ে,
শর্ষে ফুলের পাপড়ি মেখে অচেনা মুখ হয়ে।
গানে-গানে সুর মিলিয়ে পাখিদের কলতানে,
নিজেকে যতোই গোপন কর তবুও নিয়েছি চিনে।
পারলে কি আর লুকাতে আদল নিজের পরিচয়,
চিনেছি গো চিনেছি খুব চাঁদনি রাতের আলোই।
তোমার আমার আগের মত একত্রে বসবাস,
উঠছে ডুবছে চন্দ্রসূর্য তারাই ভরা আকাশ।

Wednesday, 27 December 2017

প্রণয়ী মন

প্রণয়ী মন

আব্দুল মান্নান মল্লিক

কিচিরমিচির পাখির ডাকে
ঘুম ভাঙতে দেখি।
সূয্যি মামা পূব আকাশে
মারছে উঁকিঝুঁকি।।
শর্ষে ফুলের মাথায় মাথায়
রোদ উঠেছে ওই।
পুষ্প জৌলুস রোদের হাসি
মন হল তন্ময়।।
স্বর্ণ থালায় পূবের আকাশ
মাঠে সোনার আলো।
ইচ্ছে করে মাখতে গায়ে
ঘর লাগেনা ভালো।।
শর্ষে ক্ষেতের মাঝে মাঝে
মাথা তুলেছে বক।
অশথ গাছের পাতায় পাতায়
রঙিন রোদের ঝলক।।
শিশিরে ভিজে লুটোপুটি
মৌ-হামিঙের স্নান।
কেউবা দোলে শর্ষে ফুলে
গাইছে মধুর গান।।
আলতো শিশির শীর্ষঘাসে
স্বর্ণ বিন্দু ঝরে।
মনটা কোথায় হারিয়ে গেছে
আসেনা কাছে ফিরে।।


Monday, 11 December 2017

স্পষ্ট কথা


স্পষ্ট কথা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

মন যা চাই, 
বলে ফেলি তাই।
সত্যকে ব্যক্ত করে
সুখী হতে চাই।
যদি কথা স্পষ্ট, 
ক্ষণিকের কষ্ট। 
বিশ্বাসে আশ্বাস, 
ঈশ্বর সহায়। 
প্রিয়জন পথ খুজে
আমতা কথায়।

Friday, 8 December 2017

অনুগ

অনুগ

আব্দুল মান্নান মল্লিক

বজ্র, তুফান, জলোচ্ছ্বাস, আগ্নেয়গিরি খেলার মাঝেও দিবানিশি তুমি।
জর্জরিত ক্ষতবিক্ষত তবুও হওনি কপট , মাগো তুমি যে সহনশীলনি।।
আঘাতে বজ্র তুমি, বিনয়ে গলিত তুমি, তুমিই তো বিশ্ব জীবের মা।
মমতায় বাঁধো মোরে, দিওগো ঠাঁই প্রশস্ত প্রাঙ্গণে তোমারি, ফিরিয়ে দিওনা।।
বল একবার ফিরাবে না আর, রাখিবে আবৃতে তোমারি বক্ষে ধরে।
হরিৎ ঘেরা তোমারি প্রাঙ্গণে, যেমন আছি থাকবো আমি যুগযুগান্তরে।।
কখনো বক্ষে তোমারি, কখনো দুয়ারে, কখনো তোমার শিতলা প্রাঙ্গণে।
ফিরায়ে দিয়েছ বারবার, এসে গেছি কতবার, সে হিসাব রাখিনি মনে।।

Saturday, 28 October 2017

কলি কথন

কলি কথন

আব্দুল মান্নান মল্লিক

কলি কালের ক্ষিপ্ত মানুষ মানির হারায় মান,
ভালো কথায় কান মেলেনা কলির বর্তমান। 
অতীতের সেই কথাগুলো ক'জন রাখে মনে?
রঙ মেখে আজ সঙ সেজেছে ভুলে গেছে ধনে।
ধনসম্পদের নেশায় মানুষ ভাবে তাসের ঘরে,
গোলকধাঁধায় পড়ে কেউবা হোঁচট খেয়ে মরে।
কলি যুগে দেখছি কতো কে কার ভূষণ পরে, 
যায়না চেনা নারী পুরুষ কলির ঘরে ঘরে। 
সত্য ত্রেতা দ্বাপর যুগের ইতিহাস নাই ঘরে,
সংস্রব হারায় সম্ভ্রম হারায় কলির হাত ধরে।
ফেলে আসা পথগুলো সব ইতিহাসের পাতায়,
কেউনা কেউ তুমি আমার আজ আর মনে নাই।
কে'বা গুরু কে'বা শিশ্য কে'বা কার পরাধীনে,
নিজের কথায় ব্যস্ত সবাই কে কার কথা শুনে।
কলিকালের জগতরে ভাই ছল চাতুরী প্রবঞ্চনা,
যে যার মত চলছে মানুষ কেউ করেনা মানা।



Wednesday, 25 October 2017

বর্ষার বিদায় বেলা

বর্ষার বিদায় বেলা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

এলরে এল, এল বৃষ্টি ওই,
ঘোলা জলে হাঁসেরা সব খেলছে থৈথৈ।।
দু'দিনের এই বর্ষা বাদল বৃষ্টি ঝরে পড়ে,
শীত এলরে শীত এল মেঘের ভেলায় চড়ে।
কাঁপছে ইঁদুর ঢিবির উপর শালিক গাছের ডালে,
পদ্ম পাতে ফড়িং নাচে ব্যাঙেরা নাচে জলে।
এলরে এল, এল বৃষ্টি ওই,
আকাশ তলে মেঘের ছায়া সূয্যি মামা কৈ??
পুকুর পাড়ে জল উঠেছে ছলাৎছলাৎ ঢেউ,
প্রভাত কালের সূর্যটাকে দেখল না আজ কেউ।
যেদিকে চায় অস্পটে সবুজ বেড়ায় ঘেরা,
এলোমেলো ঝড়ো হাওয়া মেঘেদের ঘোরাফেরা।
এলরে এল, এল বৃষ্টি ওই,
পাড়ার ছেলে বৃষ্টির জলে করে হৈচৈ।।
সারস সারসী নিস্পন্দে কাপছে জলাধারে,
গাছের ডালে মাছরাঙাটি ভাবছে ওই পারে।
টোকা মাথে কাস্তে হাতে ফিরছে চাষী ঘরে,
ছেদি ভায়া ধানের খেতে কি জানি কি করে।
এলরে এল, এল বৃষ্টি ওই,
জলের মাঝে রুই কাতলা ডাঙায় উঠে কৈ।।