Tuesday, 27 January 2015

নির্মম নারী

নির্মম আমার মা

আব্দুল মান্নান মল্লিক

বাঘিনী কেন হিংস্র হবে এই ধরণীর পরে,
নিজ সন্তান করছে পালন আদর যত্ন করে।
মাগো তুমি করলে আমায় নির্মমতায় নিধন,
চেয়েছিনু হতে আমি তোমাদেরই একজন।
অন্ন যদি জোটে তোমার লাগতো কত আর?
এক মুষ্টি ধরিয়ে দিলে তাতেই হত আমার।
বিলীন হত তোমারই সুখ এইতো ছিল ভয়,
ফলের ভারে ছিন্ন বোঁটা তাই কখনো হয়?
তোমার পাশে ছায়া হয়ে ঘুরছি আমি সদা,
দেখবে তুমি কেমন করে নয়নে দিয়ে পর্দা।
রাত্রি কালে ঘুমাও যখন তখন আমি আসি,
তোমার বুকে মাথা রাখি তখন একটু হাসি।
ভোর হতে ফিরে আসি তোমার কাছ ছাড়ি,
একা একা খেলে বেড়াই নাইকো ঘর বাড়ি।
তোমার কথা ভাবি যখন ঝরে নয়ন জল,
ধরে রাখি, না হয় তোমার স্বর্গ রাস্তা পিছল।
আত্মা মোর জ্বলে সদা কে করিবে শীতল,
মুছে দিও অশ্রু মাগো দিয়ে শাড়ির আঁচল।
অগ্নি দগ্ধে দগ্ধ আত্মা সহিতে পারিনা আর,
স্বর্গ মর্ত্য সব হারিয়ে পেলামনা কোন ধার।
ভুলটি যদি করে থাক তুমিতো আমার মা,
ঈশ্বর যেন করে তোমার এই অপরাধ ক্ষমা।
শুনতে কি পাওনা মাগো মোর এই ক্রন্দন,
তোমার পাপ মাথায় মাগো বইছি সারাক্ষণ।


-----------------------------------
নিষ্ঠুর হতে দূরে থেকো মায়ের জাতি জন
মমতাময়ি নামের সম্মান রাখিবে সারাক্ষণ
-----------------------------------

Monday, 26 January 2015

রসগোল্লার বিচি

রসগোল্লার বিচি

আব্দুল মান্নান মল্লিক

বলতে লজ্জায় মরি তবু না বললে নয়।
রসগোল্লার বিচি আবার কেমন রূপে হয়?
অবাক ছেলের নামটি ছিল তপন কুমার রায়।
মরছে রোগে তবুও তপন ঔষধ নাহি খায়।।
দাদুর সাথে ছিল তার অতীব ভালবাসা।
তাইতো ভেবে সবে মিলে পেল অধিক আশা।।
দাদু ভাবলো রসগোল্লায় ঔষধ দিব পুরে।
না দেখিয়া খেয়ে ফেলবে অতি তাড়া করে।।
দেখে যদি থাকে তপন রসগোল্লায় এ-কি।
বলবো আমরা সবে মিলে রসগোল্লার বিচি।।
এইতো ভেবে তপন রায়কে দাদুর কাছে দি।
অবাক ছেলে বললে দাদু আমায় বলবে কি?
দাদু বললে শোনরে তপন ভালবাসি তোরে।
রসগোল্লাটি খেয়ে ফেল অতি তাড়া করে।।
শুনে তপন বললে দাদু আড়ালে গিয়ে খাব।
মানতে যদি না পারতো আবার পালিয়ে যাব।।
অবাক ছেলে দাদুকে বলে ঘরের পিছে গেল।
রসগোল্লাটি খেয়ে আবার দাদুর কাছে এল।।
দাদু বলে খেয়েছ তপন রসগোল্লাটি সম্পূর্ণ।
নইলে তোমার মারের চোটে করবো মাথা চূর্ণ।।
অবাক ছেলে বললে দাদু রসগোল্লাটা খেয়ে।
গাছ বেরোবে আশা করি বিচিটা পুঁতে দিয়ে।।

Saturday, 24 January 2015

করি নিবেদন

 করি নিবেদন

আব্দুল মান্নান মল্লিক

ভুল যদি হয়ে থাকে ভাই বোনদের কাছে।
ক্ষমা চাহি দ্বারে আসি সবারে সঙ্গ মাঝে!
ছন্দ বিহীন সূতা বিহীন মনের মালা গাঁথা।
তুলে নিও কাব্য মোর দিওনা মনে ব্যথা।।
ভালবেসে নিওগো সবে আমার এই গাথা!
মনের গভীরে দিওগো রেখে পূর্ণ কর খাতা।।
সিন্ধু সম মনের অন্তরে একটু জাইগা দিও।
ছন্দ বিনা কবিতা মোর সোহাগ করে নিও।।
চক্ষুকোণে দিওগো মোরে একটু খানি ঠাঁই!
নেত্রগোচরে রাখিও ঢেকে হারিয়ে না যায়!!
ঝড় বাদলের সময় কালে বন্ধ করিও আঁখি।
রক্ষা করিও মোর গাথা অক্ষিগোলক ঢাকি।।
নয়ন কোণে দিওগো রেখে একটু অকুস্থল!
কঠোর করে রাখিবে ধরে আবদ্ধের শৃঙ্খল।।
বড় আশা করি আজ এই প্রত্যাশা অন্তরে!
ফিরিয়ে দিওনা কেউ মনে রেখো চিরতরে!!

Thursday, 22 January 2015

আম ধুতুরার বাগান

আম ধুতুরার বাগান

আব্দুল মান্নান মল্লিক

কেউবা করে চোর ডাকাতি কেউবা করে বাজনা,
কেউ কাহারে আঘাত দিয়ে করছে কত প্রবঞ্চনা।
দিনে রাতে চলছে আবার গঞ্জনার সাথে যন্ত্রণা,
এরই মাঝে চলছে কেমন পুজো নামাজ প্রার্থনা।
হরেক রকম মানুষের ভীড়ে চলছে খেলা সর্বক্ষণ,
পায়ের টক্কর খাচ্ছে যারা রবেনা তারা বেশীক্ষণ।
আড়াল থেকে ছুড়ছে পাথর মানব রূপি শয়তান,
তাদের সাথে মানুষের আজ দেখছি কত ব্যবধান।
পাথর ঘাতে যখম্ অনেক হারায় কেহ দেহ-প্রাণ,
কেউবা ছুটে বাঁচাতে চাই করছে এরাই পরিত্রান।
মন্দির আর গির্জা মোদের মসজিদে হয় আযান,
কেউবা এসে বাঁধায় দাঙ্গা এরাই হলো বেইমান।
ফল-উদ্যানে ঢুকে আবার করছে কেহ বিষপান,
ওই উদ্যানের মধ্যে দেখ মিস্টি ফলটি বিদ্যমান।
সৃষ্টির রহস্য বুঝতে নারী এইতো তাঁর অবদান,
ঘূর্ণি-পাকের এই দুনিয়ায় রবে শুধু সাক্ষ-প্রমান।

Wednesday, 21 January 2015

পারের তরী

পারের তরী

আব্দুল মান্নান মল্লিক

রং-বেরঙের মাঝে ভুলে, সাজলি নানা সাজে।।
পান্ডুলিপি শুণ্য করে, ভাবনা কেন আজে?
উল্লাস আর রং তামাশায়, ভবের এই খেলায়।
হাতের সময় ফুরিয়ে গেল, পারে যাবার বেলায়।।
নাইকো বাকী সময় বেশী, দেখরে ভেবে এবার।
সময় ভিক্ষা চাইলে দিবে, সাধ্য আছে কার?
সাদা পুঁথি হাতে যাদের,  করছে তারা রোদন।
পূর্ণ পুঁথি হাতে সাজিয়ে, আছে হাস্য বদন।।
পুঁথির হিসাব হাতে ধরে, বসে আছিস ওরে।
এপার ছাড়ি যেতে হবে, তোরে আপন ঘরে।।
হেলায় ফুরায় সকাল দুপুর, সন্ধ্যা এল ওই।
পারের ঘাটে বসে কাঁদিস, করিস কেন ভয়।।
খুইয়ে দিয়ে সারাটা দিন, পারের ঘাটে ভাবিস।
শ্রমে ফাঁকি দিয়ে কেন, মজুরি হিসাব করিস।।
তিনটে মাথার মালিকরে তুই, এখন উপায় নাই।
একটি মাথা ছিল যখন, ভাবনা ছিল কোথায়?
মজুরি তোর হেথায় নাই, সেথায় গিয়ে পাবি।।
পান্ডুলিপি ভরে যখন, ভব-পারে যাবি।
শুন্য হাতে আসার পরে, পুঁথি সাজিয়ে নিয়ে।।
যাবে শুধু পুঁথি তোর, সঙ্গী ছাড়ি দিয়ে।।
এটা আমার ওটা আমার, সবই রইলো পড়ে।
যাবার বেলা মিলবে যত, শুন্য হবে গড়ে।।
সঙ্গী সাথী কেউ যাবে না, পারে যাবার বেলা।
এদের নিয়ে পূরণ হল, ভবের মাঝে খেলা।।


Tuesday, 20 January 2015

শুভ নববর্ষ

শুভ নববর্ষ

আব্দুল মান্নান মল্লিক

সাজিয়ে রাখি বরণডালা তোমার অপেক্ষা করি।
তাড়াতাড়ি এস এবার কর না আর দেরী।।
উঁকি মেরে দেখছ কেন আমরা কেমন আছি।
এইতো সবে হয়েছি আজ তোমার কাছাকাছি।।
হিমের ছোঁয়া লাগে যদি ভয় করছ তাই।
মিলেমিশে থাকব মোরা হিমকে ভয় নাই।।
আনন্দে আজ মাতোয়ারা ধরাধামের মাঝে।
আসবে কেমন করে তুমি দেখবো নতুন সাজে।।
ভাঙবে কখন সুপ্তি তোমার তাকিয়ে আছি সবে।
ভাবছ তুমি আসবে তখন? যখন বারোটা হবে।।
ডাকবে যখন ভোরবেলাতে কিচিরমিচির পাখি।
কেমন করে বন্ধ রাখবে তোমার দুটি আঁখি।।
দূর করে দাও গ্লানি যত ঘোমটা দাও খুলে।
প্রভাতকালে দেখবে তোমায় নানা রঙের ফুলে।।

Saturday, 17 January 2015

সন্ধ্যামণি

সন্ধ্যামণি

আব্দুল মান্নান মল্লিক

সন্ধ্যামণি, সন্ধ্যামণি তোমায় দেখবো বলে।
দেখা মোরে নাহি দাও ফোট সন্ধ্যা হলে।।
দিবালোকে থাক বন্ধ কি অপরাধ তোমার!
নিশি কালে খোল অক্ষি হেতু বড় মজার।।
নিজ মনে ভাব কেন? নিশি মোর আপন।
অলি আবরু করে চুরি তাই কর গোপন?
নাহি লাগে জোনাকিদের দিবালোকে ভাল।।
তাই শুধু রাত্রি হলে দেয় মোরে আলো।।
জোনাকিদের কথা তুমি কেন যাও ভুলে।
নিজ রূপে সুখী থাক সন্ধ্যামণি কূলে?
একা বসে থাক শুধু নিশি ভোগ করে।
বৃথা রূপে কর বড়াই যত প্রাণ ভরে।।
না দেখে তোমারে কেউ নিশি জাগরণে।
মূল্যহীন রূপ তোমার সৃষ্টি অকারণে।।
নিশিকাল শেষে তুমি বৃন্ত ছিন্ন হবে।
না লইব হাতে তুলে দূরে পড়ে রবে।।
নিজ বলতে নিশি তোমার দিবা কেউ নয়?
অভিশাপ দিয়ে গেলাম যেন নাশ হয়!