Wednesday, 24 July 2019

শোকাহত

শোকাহত

আব্দুল মান্নান মল্লিক

বৃথাই সৃষ্টি বিধাতা তোমার জগৎ অলঙ্কার,
দেখছ নাকি শুনছ কানে দূর্বলের চিৎকার?
ধ্বনিত ওই রণঝঙ্কার শুনতে পাওনা কানে?
দেখতে পাওনা অহরহ মরছে মানুষ প্রাণে!
মাতৃবক্ষে দুগ্ধ সঞ্চার বৃক্ষ বোঝাই ফল,
জল দিয়েছ সুরভি বায়ু মাঠ ভরা ফসল।
দিবালোকে পুষ্প বাহার পাখির কণ্ঠে গান,
রাতের তারা চাঁদের হাসি সবই তোমার দান।
কিসের অভাব কিসের দুঃখ কিসের অনুতাপ,
হতভাগা আজ অধম মানুষ কুড়াই শুধু পাপ!
হিন্দু বল মুসলিম বল হোকনা জৈন খ্রিষ্টান,
সকল ধর্মের একই মালিক আল্লাহ্ ভগবান।
যেদিকে যায় বিপন্ন পথ উৎপাত প্রতিক্ষণে,
কেউ মসজিদ মন্দিরে, কেউ গীর্জা প্রাঙ্গণে।
বৃথাই আয়াস গড়ছে মানুষ নতুন প্রতিষ্ঠান, 
পূণ্য আশে পাপের বোঝা বাড়ছে অফুরান। 
অসুর আর শয়তানেরা বাঁধছে বিধান নতুন,
তোমার নামে হাতিয়ার ধরে করছে মানুষ খুন।

Friday, 8 March 2019

√ বসন্ত প্রত্যাশী

বসন্ত প্রত্যাশী

আব্দুল মান্নান মল্লিক

ওই যে আবার আসছে ফিরে বসন্ত মরশুম,
কোকিল বনে কুহু রবে ভাঙবে বাংলার ঘুম।
অঙ্গে অঙ্গে পুষ্পগন্ধ ব্যজন মেলেছে নভস্বান্,
এলোমেলো বাতাসে রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বসন্তের ঘ্রাণ।
গুঞ্জরণী শাখায় শাখায় খোঁজ করে যায় মধুপ,
পুষ্পকলি মেলবে ডানা মধুর নেশায় লোলুপ।
মৌপাখিরা খোঁজ নিয়ে যায় সকালে বিকালে,
মঞ্জরি সব ঘুমিয়ে আছে নাইরে মধু ফুলে।
জাগো হে বসন্ত অনন্ত ঘুম ঘুমাইও না আর,
শৈত্য প্রাচীর ভেঙে আনো ফুলের উপহার।
রঙবেরঙে সাজিয়ে ধরা পাখিদের দিও গান,
ফিরিয়ে দিও নবযৌবন বাংলা মায়ের প্রাণ।
ঐ যে বউল শাখায় শাখায় ফোটার অপেক্ষায়,
চেয়ে আছে ফুটবে কখন তোমার ভালবাসায়।
কচি পাতায় উঠবে সেজে শাখা ভরা ফুলে,
বয়ে দিও আলতো হাওয়া নাচবে দুলে-দুলে।
পুষ্প সৌরভ ছড়িয়ে দিও আকাশে বাতাসে,
শাখায় শাখায় নাচবে পাখি গাইবে উল্লাসে।
বাংলার মান বাংলার প্রাণ তুমিই অহংকার,
গৌরব তুমি সৌরভ তুমি বাংলার অলঙ্কার।

Friday, 15 February 2019

ফাগুনী নিশান

ফাগুনী নিশান

আব্দুল মান্নান মল্লিক

হৈ-হৈ-হৈ হৈ ফাগুন এলো ঐ,
ফুল কুঁড়িতে জগত আলো পাখিদের হৈ-চৈ।
ফাগুন হাওয়া মাতোয়ারা বুনো ফুলের গন্ধে,
ভ্রমর ভ্রমরি সুর তুলেছে মৌ পাখিদের ছন্দে।
পলাশ বনের শাখায় শাখায় রঙ ধরেছে ওই,
ফাগুন মাসের ফুলের হাসি সৌরভ মধুময়।
ঘুর্ণি বাতাস পথের পরে শুষ্ক পাতার গুঞ্জরন,
মাধুরী কাঞ্চন শিমুল ফুলে জগত অলঙ্করন।
চোখ গেল চোখ ডাকছে পাখি কুঞ্জবনে বনে,
ফটিক জল বলছে কথা লুকিয়ে সংগোপন।
গাছের ডালে কে ডাকে ওই বউ কথা কও,
ছন্দে ছন্দে গাহে পাখি বাঁকা চোখে সোনাবউ।
গাছের বাহু জড়িয়ে ধরে হরেক রঙের ফুলে,
ভূবন যেন ফুলের সাজি ফাগুন দোলায় দুলে।
মৃদু গুঞ্জরি আমের বনে উড়ে যায় মৌমাছি,
প্রকৃতির এই অনুরাগী আজ কত কাছাকাছি।

Saturday, 12 January 2019

স্রষ্টার সেরা উপহার

স্রষ্টার সেরা উপহার

আব্দুল মান্নান মল্লিক

তুই যে আমার দিনের সাথী,
তুই যে বেহেশতের দ্বার।
তুই আছিস তাই জগৎ আলো,
নইলে অন্ধকার।
তুই যে আমার গর্ভধারিণী,
বিশ্বের অহঙ্কার।
তুই যে আমার খেলার সাথী,
বিধাতার উপহার।
তোর তুলনা হয়না মাগো,
এই জগতে আর।
দুধের ঋণ শোধ করিতে,
সাধ্য আছে কার?
চরণতলে বেহেশত্ মায়ের,
এই বুঝেছি সার।
মা আছে তাই সব পেয়েছি,
চাইনা কিছু আর।
আকার দিয়ে জীবন দিলেন,
স্রষ্টা নিরাকার।
ইচ্ছা যেটা ভাঙেন গড়েন,
করেন শ্রেষ্ঠ বিচার।

Saturday, 5 January 2019

চ্যুতি

চ্যুতি

আব্দুল মান্নান মল্লিক

যেদিন তোমার বক্ষ ছাড়ি হলাম অধোগামী,
প্রাতের রবি হেসেছিল কেঁদেছিলাম আমি।
ক্ষণিক সুখের স্বপ্নঘোরে নিরব যখন হাসি,
চমকে দেখি কোথায় আমি অসহায় প্রবাসী।
যখন যেটা চাইতাম কাছে ধরা দিত হাতে,
নুরের বাতি দিবা-নিশি জ্বলত অবিরতে।
গুলবাগিচায় খেলার আসর মুখে শুধু হাসি,
অজ্ঞাত কোন ভুলের বসে হলাম শ্রমবাসী।
কি জানি কি হারিয়ে খুজি করি হায় হায়,
সব হারিয়ে নিস্ব আমি আজ আর কিছু নাই।
বদলে গেছে সময় যত মনে পড়েনা হায়,
ছিনিয়ে নিয়ে স্মৃতিকথা বাক্য দিলে তাই।

Saturday, 24 November 2018

বাঁশপাতার ঘর

বাঁশপাতার ঘর

আব্দুল মান্নান মল্লিক

শব্দগুলো হারিয়ে গেছে অশ্রুজলে ভেসে,
ছন্দ যত সুর হারিয়ে ক্রন্দন অবশেষে।
পথের শুরু শৈশবকালের আশা ছিল যত,
সবই মিথ্যা পথের শেষে দুঃখ অবিরত।
শব্দগুলো সাজাতে যেই স্তব্ধ কলম হাতে,
মনে পড়ে তাদের কথা ছিল যারা সাথে  ।
সঙ্গীসাথী ছিল যারা কেউবা আছে নাই,
মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে অকালে ঝরে যায়।
ভুলের বসে আঁকড়ে ধরা সময় যায় সরে,
মিথ্যা আশায় দিন ফুরাল বাঁশপাতার এই ঘরে।
লিখতে হারায় শব্দমালা কোথায় ছন্দগীতি,
জীবন মরণ রণ ভাবনায় কাটায় দিবস রাতি।
পথপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখি জীবনটাই সব বৃথা,
কথার কথা সবই মিথ্যা চিরাচরিত প্রথা!

Tuesday, 16 October 2018

ভবতারিণী

ভবতারিণী 

আব্দুল মান্নান মল্লিক

মমতাময়ী জগৎ জননী বিকট কেন আজ,
শিবের আজ্ঞা রক্ষা করতে সসস্ত্রে রণসাজ।
বৃথাই ক্লেশ মা-গো তোর হয়নি দানব বোধ, 
অদ্যদিনে তাণ্ডবলীলা মানব দানব বিরোধ।
তুই যে নারী করুণাময়ী যতই করিস ছল,
অসুর নাশে তবে কেন তোর চোখেতে জল?
স্রষ্টার সৃষ্টি ভূবনটারে তুই যে করিস পালন,
কারো মতে অসুর নিধন কারো মতে শাসন।
সেবিকা তুই শাসিকা তুই  জগৎ জননী তুই,
ঘরের শত্রু ঘরে ঘরে করলি না মা কিছুই!
আকাশ পাতাল মর্তভূমি ত্রিভুবনটাই নাকাল,
নিরর্থক তোর তরবারি বাঁচতে ধরিস ঢাল।
ষোড়শোপচার শঙ্খ ধ্বনি বরণডালায় মানুষ,
ওই দেখ্ মা অসুর গোত্র ধুলোয় পড়ে বেহুঁশ।
দিনে রাতে খেলছে অসুর সর্বনাশা খেলা,
তাইতো মানুষ পথভ্রষ্টে অসুরকুলের চেলা।
অসুর নিধন বিফল মাগো যুগযুগান্তর ধরে,
উচ্ছেদ হবে কেমন করে অসুর সবার ঘরে।
এবার যখন আসবি মা তুই সয়ং রোষানলে, 
অসুরকুলের হোক অবসান তোর কোপানলে। 
রোষাগ্নিতে করিস মা তুই দুষ্ট অসুর নিধন, 
নইলে বিনাশ সত্যপথের নশ্বর হবে ভুবন।